গুরুদেব বললেন ,
রাম , ভোর হওয়া গেছে ।
চলো , আমি তোমারে দিয়া আসি ।
শ্রীশ্রী রামঠাকুর
শ্রীশ্রী রামঠাকুর বলেছেন ,
এই সময় সীতাকুণ্ড শিব চতুর্দশীর পূর্বে গুরুদেব যোগাযোগ প্রেরণ করলেন,
আমি যেন শিবচতুর্দশীর দিন সীতাকুণ্ডে গুরুদেবের সঙ্গে সাক্ষাৎ করি।
ছুটির জন্য দরখাস্ত দিলাম ।
বড় সাহেব কার্য্য পরিদর্শনে আসবেন বইলা আমার
ছুটি মঞ্জুর হইল না ।
চতুর্দশীর দিন প্রাতে টেলিগ্রাম আসল ,
বড় সাহেব আসবেন না । ছুটি পাইলাম ।
ছুটি পাইয়া আনন্দে দিশাহারা হইয়া পদব্রজে ছুটতে আরম্ভ করলাম ।
দ্রুত পায়ে হাইটা জানতে পারলাম ,
ফেনী হইতে সীতাকুণ্ড যাইতে হইলে দক্ষিণ দিকে না গিয়া
আমি ভুলে দশ মাইল উত্তর দিকে আইসা পড়ছি ।
বেলাও অনেক হইয়া গেছে ।
আজ আর সীতাকুণ্ড যাওয়া হইল না ভাইবা দুঃখে গাছের
তলায় বইসা কাঁদতে লাগলাম ।
হঠাৎ জঙ্গলে শব্দ শুইনা মাথা উঠাইয়া দেখি ,
একজন জটাজুটধারী সাধু আমাকে বলছেন ,
" বাচ্চা রোতা হ্যায় কেঁও " ?
আমি ঘটনাটি জানাইলে সাধু বলিলেন ,
" সীতাকুণ্ড যাওগি তব মেরা সাথ আও " ।
আমি বিনা বাক্যব্যয়ে পশ্চাৎ সাধুকে অনুসরণ করলাম ।
সন্ধ্যার প্রাক্কালে সীতাকুণ্ড পাহাড়ের পাদদেশে
উপস্থিত হইলে সাধু বলিলেন ,
" ওহি সীতাকুণ্ড হ্যায় , আভি চলা যাও " ।
আমি ব্যাসকুণ্ডের ধারে গিয়া গুরুদেবের সঙ্গে মিলিত হইলাম ।
গুরুদেব হাইসা বললেন ,
" কোন বিষয়ে অধিক হর্ষ কি বিমর্ষ হইতে নাই "।
গুরুদেবের সঙ্গে দুইজন দীর্ঘদেহধারী সন্ন্যাসী ছিলেন।
আমি পূজা ও যজ্ঞের ব্যবস্থা করিয়া দিলাম ।
পূজা ও যজ্ঞ হোমাদি সম্পন্ন করতে রাত চারটা বাজিয়া গেল ।
গুরুদেব বললেন ,
" রাম , রাত ভোর হইয়া গেছে ।
চল , আমি তোমারে দিয়া আসি " ।
প্রভাত হওয়ার বিলম্ব ছিল না বইলা , আমরা দুইজনে একটা গাছে উইঠা আইসা আমি নামলাম ।
পরে যোগাযোগ হৈবো বইলা গুরুদেব অন্তর্হিত হইলেন।
এমন সময় আমগো অফিসের এক পেয়াদার সঙ্গে দেখা হইলে
সে আমারে জিজ্ঞাসা করল ,
" রাম তুমি এত ভোরে এখানে আসছ কেন ?
তোমার কপালে চন্দন কেন ?
এখানে আমার সঙ্গে দেখা হইছে এই কথা প্রকাশ না
করার জন্য তাকে মিনতি কইরা বইলা ,
আমি দীঘিতে যাইয়া কপাল মুখ ধুইয়া ,
কোয়ার্টারে হাজির হইলাম ।
পেয়াদা কথাটা গোপন রাখে নাই ।
প্রকাশ কইরা দেওয়াতে আমার অসুবিধা হইছিল ।
এতে সদস্যতা:
মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন
(
Atom
)






.jpg)
কোন মন্তব্য নেই: