Sri Sri Ram Thakur is a revered spiritual master whose teachings continue to inspire countless devotees across India and around the world. The website serves as a comprehensive digital platform dedicated to preserving, promoting, and sharing the divine life, teachings, philosophy, and spiritual legacy of Sri Sri Ram Thakur, lovingly known as Dayal Thakur, Sri Sri Kaibalyanath, and Sri Sri Satyanarayan by his followers. Born as Ram Chandra Dev in Dingamanik, Faridpur (present-day Bangladesh)

িঙ্গামাণিকে শ্রীশ্রীঠাকুরের মহাসমাবেশ ও চেরাগ আলির প্রতি আশ্চর্য কৃপা

```html

ডিঙ্গামাণিকে শ্রীশ্রীঠাকুরের মহাসমাবেশ ও চেরাগ আলির প্রতি আশ্চর্য কৃপা

শ্রীশ্রীঠাকুর তখন স্বীয় জন্মভূমি ডিঙ্গামাণিক গ্রামে পৈত্রিক বাড়ীতে অবস্থান করিতেছেন। শ্রীশ্রীঠাকুরের আদেশানুযায়ী পৌষ সংক্রান্তির সময় গুরুভ্রাতা শ্রদ্ধেয় অমূল্যচরণ ঘোষ এবং আমি চাঁদপুর হইতে নৌকাযোগে ডিঙ্গামাণিকের উদ্দেশ্যে যাত্রা করি। রাত্রি প্রায় ১টার সময় ডিঙ্গামাণিক ঘাটে পৌঁছিয়া আমরা নৌকাতেই রাত্রিযাপন করি।

পরদিন সকালে ঠাকুরবাড়ীতে গিয়া শ্রীশ্রীঠাকুরকে প্রণাম করিলাম। ঠাকুর আমাকে দেখিয়া অত্যন্ত আনন্দ প্রকাশ করিলেন। সকাল হইতেই চারিদিক হইতে অসংখ্য কীর্তনের দল আসিতে লাগিল। একদল কীর্তন শেষ করিয়া গেলে অন্যদল সেই স্থান অধিকার করিত। এইভাবে দিন-রাত্রি অবিরাম কীর্তন চলিতে থাকিল।

রাত্রি ১০টার পরে ঠাকুরের ভোগ নিবেদন করা হইত। ভোগ ও শয়নের সময় ব্যতীত প্রায় সর্বক্ষণই ভক্তদের আগমন চলিত। রাত্রি ১১টার পূর্বে ঠাকুরের শয়নের ব্যবস্থা করা যাইত না এবং আমরাও বিশ্রামের সুযোগ পাইতাম না।

ভক্তসমাগমের অপরূপ দৃশ্য

ঠাকুরের দরজার সম্মুখে আমরা শয়ন করিতাম। কিন্তু বিশ্রাম বলিয়া কিছু ছিল না। সারারাত লোকজন আসিয়া ঠাকুরের সহিত কথা বলিত। ছয় দিন ধরিয়া এই অবস্থা চলিয়াছিল।

ভক্তদের ভীড় এত অধিক ছিল যে, ঠাকুরের দুই পাশে দুইজন বলিষ্ঠ ব্যক্তি থাকিয়াও ভীড় নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হইত। দূর-দূরান্ত হইতে অসংখ্য মানুষ আসিয়া ঠাকুরকে প্রণাম করিত এবং নিজ নিজ দুঃখ, কষ্ট ও প্রার্থনার কথা নিবেদন করিত।

কেহ সামনাসামনি, কেহ কানের কাছে, আবার কেহ দূর হইতে উচ্চস্বরে নিজের প্রার্থনা জানাইত। কিন্তু শ্রীশ্রীঠাকুর সম্পূর্ণ নির্বিকারভাবে সকলের কথা শুনিতেন এবং সমানভাবে উত্তর প্রদান করিতেন।

“এরা কি চায় জানে না।”

মাঝে মাঝে ঠাকুর এই কথাটিই বলিতেন।

চেরাগ আলির আগমন

এক সময় ঘরের একেবারে শেষ প্রান্তে বসিয়া থাকা গুরুভ্রাতা চেরাগ আলির প্রতি ঠাকুরের দৃষ্টি গেল। চেরাগ আলি একটি ধামায় কিছু আতপ চাউল, দুইটি কমলালেবু, একটি ঘটিতে দুধ এবং একটি বড় গাঁদাফুলের মালা লইয়া উপস্থিত ছিলেন।

ঠাকুর তাঁহাকে ডাকিতে বলিলেন। চেরাগ আলি নিকটে আসিয়া সেলাম করিলেন এবং গাঁদাফুলের মালাটি ঠাকুরের গলায় পরাইলেন।

ঠাকুর পুনরায় সেই মালা চেরাগ আলির গলায় পরাইয়া দিয়া বলিলেন—

“লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ — এই নামটি করিবে।”

চেরাগ আলি আনন্দে উচ্ছ্বসিত হইয়া বলিলেন—

“এই আমার মহম্মদ!”

ঠাকুর তাঁহাকে স্নেহভরে আলিঙ্গন করিলেন।

অলৌকিক আশ্বাস

ঠাকুর চেরাগ আলিকে বলিলেন—

“তুমি তোমার বাড়ীতে একটি আসন করিয়া বসিয়া থাক। কোথাও যাইও না।”

চেরাগ আলি বলিলেন—

“আমরা তাঁতী, বাজারে না গেলে চলিবে কি করিয়া?”

ঠাকুর বলিলেন—

“কোন চিন্তা নাই। ঐ আসনই তোমাকে সব দিবে। ঐ আসনে বসিয়া তুমি যাহাকে যাহা দিবে তাহাতেই তাহার উপকার হইবে।”

চেরাগ আলি আবার প্রশ্ন করিলেন—

“আমি কি করিয়া আপনার দেখা পাইব?”

তখন শ্রীশ্রীঠাকুর এক আশ্চর্য প্রতিশ্রুতি প্রদান করিলেন—

“নদীর পাড়ে দাঁড়াইয়া ‘তালই, তালই’ বলিয়া ডাকিবে। আমি যেখানে থাকি না কেন আসিয়া হাজির হইব।”

এই কথা শুনিয়া উপস্থিত সকলে বিস্মিত হইলেন। চেরাগ আলি ভাই প্রণাম করিয়া বিদায় গ্রহণ করিলেন।

লেখকের অনুভূতি

লেখক রোহিণী কুমার মজুমদার লিখিয়াছেন যে, তিনি বহু গুরুভ্রাতাকে ঠাকুরের নাম গ্রহণ করিতে দেখিয়াছেন, কিন্তু চেরাগ আলির প্রতি প্রদত্ত এইরূপ আশ্বাস এবং ডাকামাত্র উপস্থিত হওয়ার প্রতিশ্রুতি তিনি আর কখনও শ্রীশ্রীঠাকুরের মুখে শুনেন নাই।

চেরাগ আলি ভাইয়ের পূর্বজন্মের কত সাধনা, কত সুকৃতি এবং কত মহাপুণ্যের ফলে তিনি এই দুর্লভ কৃপালাভ করিয়াছিলেন, তাহা কেবল শ্রীশ্রীঠাকুরই জানিতেন।


🌺 জয় রাম 🌺
নামই সত্য, নামই কৈবল্য
www.srisriramthakur.com

সূত্র: শ্রীগুরু শ্রীশ্রীরাম ঠাকুর — রোহিণী কুমার মজুমদার

```
িঙ্গামাণিকে শ্রীশ্রীঠাকুরের মহাসমাবেশ ও চেরাগ আলির প্রতি আশ্চর্য কৃপা িঙ্গামাণিকে শ্রীশ্রীঠাকুরের মহাসমাবেশ ও চেরাগ আলির প্রতি আশ্চর্য কৃপা Reviewed by শ্রী শ্রী সত্যনারায়ণ নমঃ(SriSriramthakur O gan Ganer vhovon Youtube channel) on June 01, 2026 Rating: 5

No comments:

Powered by Blogger.