একদা ঢাকা হইতে চাঁদপুর যাওয়ার সময় ভৈরব স্টেশনে আমিও সঙ্গী হইয়াছিলাম ।
ট্রেনে পূজা করিবার প্রসঙ্গ তুলিয়া বলিলাম ,
ব্রাক্ষ্মণ পুরোহিত প্রভৃতিরা কত সংস্কৃত মন্ত্র বলিয়া পূজা করেন আমি তো সেসব কিছুই জানি না । নাম পাইয়াছি কিন্তু ঠাকুর পূজা কীরূপে করিব ? ঠাকুর বলিতে লাগিলেন মন্ত্র তন্ত্রের কোন প্রয়োজন হয় না ভক্তিই সব ।
এই প্রকার নানা কথা বলিতে বলিতে লাকসামের আগের স্টেশনে ট্রেণ পৌঁছাইলে ঠাকুর আমাকে পূজা পদ্ধতি
বলিলেন । জলশঙ্খের মধ্যে জল লইয়া চন্দন আতর অগুরু তুলসী প্রভৃতি নিয়া সামান্য জলের ছিটা দিয়া চিত্রপটখানি কোলে
তুলিয়া রুমাল বা তোয়ালে দিয়া ধীরে ধীরে মুছাইতে হইবে। চিত্রপট যথাস্থানে রাখিয়া সুগন্ধ চন্দনে তুলসীপাতা ডুবাইয়া নাম করিতে করিতে শ্রীচরণে দিতে হইবে । প্রতিবারে তিনবার নাম করিয়া ৩টি বা ৫টি তুলসী দিতে হয় । পরে সচন্দন পুষ্প বিল্বপত্রে অঞ্জলি করিতে হয় । মন্ত্র সব সময়েই সেই একই নাম।
স্বীয় নামোল্লেখ করিয়া বলিলেন রাম রাম বলিবেন না যেই নাম পাইয়াছেন সেই নামই জপ করিবেন । ভোগ নিবেদন প্রসঙ্গে বলিলেন
সকল নৈবেদ্যের উপর জলসহ তুলসীপত্র দিতে হইবে । তারপর প্রতিবারে তিনবার করিয়া ' নাম করিয়া প্রতি নৈবেদ্যের উপর জলশঙ্খে রাখা জলের ছিটা দিতে হইবে । ঠাকুরের নিকট একান্ত মনে করজোড়ে প্রার্থনা জানাইতে হইবে ভোগ গ্ৰহণের জন্য । তারপর আরতি মন্ত্র সেই নাম ।প্রথমে ধূপতি দিয়া পরে পঞ্চ প্রদীপ জলশঙ্খ , তোয়ালে পুষ্পগুচ্ছ এবং সর্বশেষ শান্তি বিধানের জন্য ময়ূরের পাখা
দিয়া ঠাকুরের আরতি সুসম্পন্ন করিতে হয় ।
ভোগ নিবেদনের পর কিছু সময়ের জন্য দরজা বন্ধ করিয়া রাখিতে হইবে
পরে দরজা খুলিয়া প্রসাদ বিতরণ করিতে হয়।
শ্রী দেবেন্দ্রচন্দ্র ধর । শবরী সঙ্কলন ।
শ্রীশ্রী কৈবল্যধাম যাদবপুর থেকে প্রকাশিত ।
এতে সদস্যতা:
মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন
(
Atom
)






.jpg)
কোন মন্তব্য নেই: