নাম প্রাপ্তি ও আত্মসিদ্ধি
বেদবাণী আলোচনা প্রসঙ্গে
অধ্যাপক শ্রীঅবনী মোহন বন্দ্যোপাধ্যায়
মূল বাণী
“নাম প্রাপ্তি খুব সহজসাধ্য নয়। কুশাগ্র দিয়ে সমুদ্র সেচনের মত ধৈর্য্য, সহিষ্ণুতা, অধ্যাবসায় ও অভ্যাসের প্রয়োজন। যিনি তা পারেন তিনি ‘অভাব’ ত্যাগ করে ‘স্বভাবে’ যান, ‘দক্ষযজ্ঞ’ বর্জ্জন করে ‘স্বরূপে’ প্রতিষ্ঠিত হন, ‘ব্যাসকাশী’ ছেড়ে শিবস্থানে বাস করেন।
তিনি এমন এক অবস্থায় পৌঁছান যেখানে ‘কোন দরকার না থাকা’ রূপ পরবৈরাগ্য লাভ করে ‘কেবল’ হন। যেখানে সকলের রাত্রি, সেখানে তিনি জাগ্রত — ‘র্যা নিশা সর্ব্ব ভূতানাম্’। সেই অবস্থায় তিনি হন ‘স্বয়ং জ্যোতিঃ’।
আত্মজ্ঞানের চূড়ান্ত অবস্থা
তিনি হন — অকাম, নিষ্কাম, আপ্তকাম, আত্মকাম। তাঁহার প্রাণ আর কোথাও গমন করে না। তিনি ব্রহ্ম হয়ে ব্রহ্মকেই লাভ করেন।
“ব্রহ্মৈব সন্ ব্রহ্মাপ্যেতি” (বৃহদারণ্যক উপনিষদ ৪.৪.৬)
ভগবানের বাণী
কিন্তু ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বলেন —
“স মহাত্মা সুদুর্লভঃ”
(এইরূপ মহাত্মা অত্যন্ত বিরল)
আধ্যাত্মিক ব্যাখ্যা
এই বাণী আমাদের শিক্ষা দেয় যে, সত্যিকারের নাম প্রাপ্তি বা ঈশ্বরলাভ কোনো সহজ বিষয় নয়। এটি দীর্ঘ সাধনা, ধৈর্য্য ও আত্মশুদ্ধির মাধ্যমে অর্জন করতে হয়।
যখন মানুষ সমস্ত অভাব, কামনা ও অহংকার ত্যাগ করে, তখনই সে নিজের প্রকৃত স্বরূপে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে। এই অবস্থাই প্রকৃত মুক্তি ও ব্রহ্মলাভ।
॥ জয় রাম ॥ জয় গোবিন্দ ॥
Reviewed by শ্রী শ্রী সত্যনারায়ণ নমঃ(SriSriramthakur O gan Ganer vhovon Youtube channel)
on
এপ্রিল ০৫, ২০২৬
Rating:






.jpg)
কোন মন্তব্য নেই: