দোলনার মধ্যে একখানি পিড়ি পাতিয়া তাহার উপর খুকীর বিছানা পাতার ব্যবস্থা করিলেন এবং একগাছি লম্বা দড়ি দোলনার সহিত বাঁধিয়া নিজের বিছানার উপর অন্য অংশ রাখিলেন। আমরা বিদ্যালয়ে চলিয়া গেলে দুপুরে ঠাকুর তাঁহার খাটের উপর বসিয়া খাতায় গান লিখিতেন এবং মধ্যে মধ্যে দোলনা টানিতেন। দোলনাটি বেশ উপরেই টানানো হইয়াছিল। ঠাকুরকে দোলনা টানিতে নিষেধ করিতাম কিন্তু তিনি তাহা শুনিতেন না। নিজেই দোলনা টানিতেন। ঝি বসিয়া থাকিত বা ঘুমাইত। আমরা দুই জনে এগারটার পূর্ব্বে বাহির হইয়া যাইতাম এবং চারটার সময় ফিরিতাম। একদিন বেলা দশটার সময় আমি ও আমার স্ত্রী নীচের তলায় স্নান করিতে গিয়াছি। হঠাৎ উপরতলায় দোলনা ছিঁড়িয়া পড়ার শব্দ হইল। সঙ্গে সঙ্গেই একটা ক্যাঁক করিয়া শব্দ হইল, আর কোন শব্দ হইল না। আমার স্ত্রী ভিজা কাপড়ে উপরে দৌড়াইয়া যাইতেছেন দেখিয়া তাঁহাকে নিষেধ করিলাম। স্নান সারিয়া দুইজনে উপরে আসিয়া দেখিলাম ঠাকুর খুকীকে কোলে করিয়া ঘুরিয়া বেড়াইতেছেন। আমার স্ত্রীর দিকে চাহিয়া ঠাকুর বলিলেন, "খুকী ব্যথা পায় নাই।" আমরা হাসিয়া ফেলিলাম। খুকীর বিছানা দোলনাসহ এক ধারে পড়িয়া আছে। আমি বলিলাম, "আপনি আছেন, খুকী আবার ব্যথা পাবে কেন?" খুকীকে আমার স্ত্রীর নিকট দিয়া ঠাকুর দোলনাটি পুনরায় তৈয়ার করিলেন।
শ্রী গুরু শ্রী রাম ঠাকুর রোহিণী কুমার মজুমদার
Reviewed by শ্রী শ্রী সত্যনারায়ণ নমঃ(SriSriramthakur O gan Ganer vhovon Youtube channel)
on
আগস্ট ০৪, ২০২৬
Rating:






.jpg)
কোন মন্তব্য নেই: