সবাই তাঁহার নিকট সমান; সর্ব্বাধিক প্রিয় তাঁহার কেহই ছিল না, তাঁহার নিকট যিনি থাকিতেন, মনে করিতেন তিনি ঠাকুরের অতি প্রিয় জন। বালক-বালিকা, যুবক-যুবতী, বৃদ্ধ-বৃদ্ধা সবাইকে তিনি 'আপনি' বলিয়া সম্বোধন করিতেন। এমন কি বাড়ীর ঝি, ভৃত্য বা পরিচারিকা, রাস্তার কুলি-মজুর, যাহাদিগকে আমরা তাচ্ছিল্যভরে 'তুমি' বা 'তুই' বলিয়া সম্বোধন করি, তাহাদিগকেও ঠাকুর 'আপনি' বলিতেন এবং সসম্মানে নিজের নিকটে আনিয়া বসাইতেন। সকল জাতি ও ধর্ম্মের মধ্যে তিনি সত্যকে ' দেখিতেন। যাহা কিছু মঙ্গল, যাহা কিছু সুন্দর সবই তাঁহার মধ্যে বর্তমান। প্রীতি, ভক্তি, ত্যাগ ও সেবায় তাঁহার সমগ্র জীবন নিবেদিত ছিল। যেখানে তিনি উপস্থিত থাকিতেন সেখানে সকল দুঃখ ও অনুযোগ স্তব্ধ হইয়া যাইত। স্নান করিতেন না। কেবল মজঃফরপুরে থাকাকালীন তিন দিন ঠাকুরের সমস্ত শরীরে দধি মাখাইয়া স্নান করান হইয়াছিল। পুরীতে সমস্ত দিন সমুদ্র সৈকতে বালির মধ্যে বসিয়া থাকার জন্য সর্ব্ব শরীরে বালি ও কাদা লাগিত। ঐ সময় ২২ দিন প্রত্যহই ঠাকুরকে স্নান করান হইত। কেহ জোর করিয়া তাঁহার পরিধেয় কাপড়-জামা পরিবর্তন না করাইলে ঐভাবেই থাকিতেন। যেখানে যখন অবস্থান করিতেন তাহারাই পরিধেয় বস্তুগুলি পরিষ্কার করিয়া দিতেন। কোন দিন তাঁহাকে অন্নগ্রহণ করিতে দেখি নাই। বরাবরই সামান্য ফল-মূল, দধি, দুগ্ধ, সন্দেশ এবং ক্বচিৎ লুচি-তরকারী ভোগে লাগিত; মানকচু, ওলকচু, কাঁচাকলা, বিচিকলা, ঢেঁড়স, মর্তমান কলা ও চালতার আচারও কখন কখন বিশেষ পছন্দ করিতেন, মনে হইত। ঠাকুর আমাদের বাসায় অবস্থানকালীন বা ঠাকুরের সহিত কোথাও গেলে সর্ব্বদাই ঠাকুরের নিকটেই থাকিতে হইত। বিনানুমতিতে কোথাও যাওয়ার উপায় ছিল না। দৈবাৎ কোথাও গেলে কৈফিয়ৎ দিতে হইত। শ্রী গুরু শ্রী শ্রীরাম ঠাকুর
Reviewed by শ্রী শ্রী সত্যনারায়ণ নমঃ(SriSriramthakur O gan Ganer vhovon Youtube channel)
on
আগস্ট ০৪, ২০২৬
Rating:






.jpg)
কোন মন্তব্য নেই: