এই গল্পটি শ্রীমদ্ভাগবত পুরাণ থেকে নেওয়া ভক্ত ধ্রুবর অমর ও চিরন্তন কাহিনী।
কীভাবে এক ছোট রাজকুমার নিজের সৎমায়ের অবমাননায় অপমানিত হয়ে বনে গিয়ে কঠোর তপস্যার মাধ্যমে ভগবান বিষ্ণুর দেখা পেয়েছিলেন, তারই এক সংক্ষিপ্ত রূপ নিচে দেওয়া হলো।
- রাজপরিবার ও অপমান: রাজা উত্তানপাদের দুই রানি—সুরুচি ও সুনীতি। সুরুচির পুত্র উত্তম এবং সুনীতির পুত্র ধ্রুব। এক দিন রাজা সুরুচির পুত্রকে কোলে বসিয়ে আদর করছিলেন। শিশু ধ্রুবও রাজার কোলে উঠতে যায়। কিন্তু রানি সুরুচি তাকে ধমক দিয়ে নামিয়ে দেন। তিনি বলেন, রাজার কোলে বসার অধিকার কেবল তাঁর পুত্রেরই আছে, ধ্রুবর নয়। [1]
- মায়ের সান্ত্বনা ও সংকল্প: অপমানিত ও কেঁদে ধ্রুব তাঁর মা সুনীতির কাছে যান। মা তাঁকে সান্ত্বনা দিয়ে বলেন, যাঁর কৃপায় ধ্রুবর জন্ম, সেই ভগবান বিষ্ণুর আরাধনা করতে। পাঁচ বছরের ছোট্ট ধ্রুব মনে মনে প্রতিজ্ঞা করে—সে এমন এক স্থান অর্জন করবে, যা কারও চেয়ে ছোট নয়। সে রাজপ্রাসাদ ছেড়ে বনের পথে হাঁটা ধরে। [1]
- তপস্যা ও নারদ মুনির দীক্ষা: বনের মধ্যে দেবর্ষি নারদ ধ্রুবর মনের নিষ্ঠা দেখে অবাক হন। নারদ মুনি তাকে ছোট্ট একটি মন্ত্র শিখিয়ে দেন— "ওঁ নমো ভগবতে বাসুদেবায়". ধ্রুব সেই মন্ত্র জপ করতে শুরু করে। প্রথম দিকে ফলমূল খেয়ে থাকলেও, পরে বাতাস ও কেবল নিশ্বাস বন্ধ করে কঠিন থেকে কঠোরতর তপস্যায় বসে। তার তেজে পুরো ব্রহ্মাণ্ড কেঁপে ওঠে। [1]
- ভগবানের দর্শন ও বরলাভ: ধ্রুবর এই অটল ভক্তি দেখে ভগবান বিষ্ণু প্রসন্ন হন। তিনি গরুড়ের পিঠে চড়ে ধ্রুবর সামনে উপস্থিত হন। ধ্রুব তখন ছোট বালক। ভগবান তাঁর চন্দন-চর্চিত শঙ্খ ধ্রুবর কপালে স্পর্শ করতেই ধ্রুবর মনের সব জ্ঞান ও পবিত্রতা ফুটে ওঠে। সে স্তব করে প্রভুকে সন্তুষ্ট করে। [1]






.jpg)
কোন মন্তব্য নেই: