পূর্ব্ব পরিচিত একজন প্রৌঢ়া বিধবা ভদ্রমহিলা আমাকে এক বেলা আহারের জন্য নিমন্ত্রণ করিলে আমি ঠাকুরের অনুমতি লইয়া মধ্যাহ্নে তাঁহার বাড়ীতে আহার করি। তিনি খুব যত্ন করিয়া নানা ব্যঞ্জন আদি দ্বারা আমার ভূরি ভোজন করাইয়া আমাকে বেশ নরম ও পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন বিছানায় শুইয়া বিশ্রাম করিতে অনুরোধ করায় আমি আলস্য বশতঃ অতি অল্প সময়ের মধ্যেই গাঢ় নিদ্রাভিভূত হইলাম। জাগিয়া উঠিয়া বেলা প্রায় শেষ হইতেছে দেখিয়া তাড়াতাড়ি শ্রীশ্রীঠাকুরের নিকটে আসিলে ঐ বাড়ীর লোকেরা বলিল যে, আমার ফিরিতে গৌণ হওয়ায় ঠাকুর খুবই ব্যস্ততার ভাব দেখাইয়া অনেকবার আমি ফিরিয়া আসিয়াছি কিনা এই সংবাদ নিয়াছেন। বলা বাহুল্য যে আমি এই অনিচ্ছাকৃত গৌণের জন্য খুবই লজ্জা বোধ করিয়াছি ও দুঃখিত হইয়াছি। পরে চিন্তা করিয়া আমার এই প্রতীতি জন্মিয়াছে যে, আমার পক্ষে ঐ নিমন্ত্রণ গ্রহণ না করাই সঙ্গত ছিল। যিনি সর্বদ্রষ্টা তাঁহার নিকট ঐ গৌণের কারণ নিশ্চয়ই অবিদিত ছিল না। তিনি ঐ নিমন্ত্রণ গ্রহণে আমাকে সম্মতি দেওয়ার সময় ঐ স্থানের পরিস্থিতি ও সবই জানিয়াও আমার ভোজনের লিপ্সায় বা সৌজন্যে বাধা দেন নাই। কিন্তু আমার ভবিষ্যৎ মঙ্গলের জন্য ঐরূপ অস্বাভাবিক ব্যস্ততা দেখাইয়া প্রকারান্তরে আমাকে তথায় পুনরায় যাইতে বারণ করিলেন। বস্তুতঃপক্ষে আমি আর কখনও তথায় যাই নাই।
শ্রীশ্রী ঠাকুর রামচন্দ্র দেব স্মরণে । শুভময় দও (পৃষ্ঠা ১২৭) জয় রাম জয় গোবিন্দ
Reviewed by শ্রী শ্রী সত্যনারায়ণ নমঃ(SriSriramthakur O gan Ganer vhovon Youtube channel)
on
আগস্ট ০৪, ২০২৬
Rating:






.jpg)
কোন মন্তব্য নেই: