আমি সকলই গ্রহণ করি
ঢাকা শহরে আমাদের অতি ভক্তিমতী এক গুরুবোন ছিলেন। যখন যেখানে উৎসবাদি হইত, সেখানেই স্বামী-স্ত্রী উপস্থিত থাকিতেন। "কিরণ দিদি" নামে তিনি পরিচিত ছিলেন। শৈশবে তিনি শ্রী রামঠাকুরের নিকট হইতে "শ্রীনাম "পাইয়া ধন্য হইয়াছেন। উৎসবাদিতে কীর্তনের সুমধুর সুর শুনিতে শুনিতে তন্ময় হইয়া যাইতেন এবং অনেক সময় অজ্ঞান হইয়া পড়িতেন। কিছু সময় পরে সবাই মিলিয়া তাহার চোখে মুখে জল ছিটিয়ে সুস্থ করিয়া তুলিতেন। বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে তাহার ডান হাতখানা অবশ হইয়া অকেজো হইয়া পড়িল। ফলে খাওয়া দাওয়া, শ্রীঠাকুরের সেবা সবই বাম হাতে করিতে হইত। তিনি দিনরাত্রি দুঃখ করিয়া মনে মনে শ্রীঠাকুরকে তাহার অক্ষমতার কথা জানাইতেন যে, "ঠাকুর আমি তোমাকে বাম হাতে ভোগ দিয়া আরও পাপের ভাগী হইতেছি, আমার কি উপায় হইবে?" সর্বদা তার মনের ভিতরে এইরূপ আন্দোলিত হইত। একবার শ্রী ঠাকুর ঢাকা শহরে আসিয়া উপস্থিত হইলেন। কিরণ দিদি শ্রীঠাকুরের 'আগমন বার্তা পাইয়া, খোঁজ নিয়া সেই ভক্তের বাড়িতে যাইয়া উপস্থিত হইলেন। শ্রীঠাকুরকে প্রণাম করিয়া কিরণ দিদি নিজের অক্ষমতার কথা বলিয়া কাঁদিতে লাগিলেন। শ্রী ঠাকুর কিরণ দিদির কথা শুনিয়া বলিলেন, মা, আপনি যে বাম হাতে ভোগ দেন তা তো অনেক পবিত্র, ভক্ত যদি আমাকে পা দিয়া ঠেইলা দেয়, তাও আমি গ্রহণ করি। আপনার কোন চিন্তা বাঁ ভয় নাই। আপনি নিশ্চিন্তে ভোগ দিতে পারেন। আমি অকাতরে ভোগ গ্রহণ করব, কোন পাপই আপনাকে স্পর্শ করবে না। "জয়রাম" একান্ত অন্তরে, চিন্তা করে যে আমার। আমি বহন করি মোক্ষভার তার। " শ্রীগুরুরামকৃপাহি কেবলম" পৃষ্ঠা সংখ্যা ৫৩ হইতে।
এতে সদস্যতা:
মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন
(
Atom
)






.jpg)
কোন মন্তব্য নেই: