এক ট্রাক চাউল ও ডাল
খোঁজ করিয়া ট্রাকের ড্রাইভার হইতে জানা গেল, পথে বহু বস্তার স্তূপ লইয়া একজন বুড়া দাঁড়াইয়াছিল। সুবিখ্যাত ভক্ত চূড়ামণি শ্রীযুক্ত দাদা মণীন্দ্র চক্রবর্তীর সখ হইল বাগমা দীঘির পূর্বপাড়ে একটি উৎসব করিবেন। আজ অধিবাস। শেষ পর্যন্ত তাঁহার হাতে বার টাকা সাড়ে বার আনা আছে। তিনি একটি কমিটি গঠন করিয়াছিলেন। তার নাম হইল "শান্তি কমিটি"। অধিবাসে যাহা যাহা দরকার, না হইলে নয় তাহাও সংগ্রহ করা একরূপ অসম্ভব। এই বার টাকা সাড়ে বার আনা লইয়া কয়েকজন বাজারে গেল। শান্তি কমিটির সকল বৃদ্ধ, যুবক ও ছেলের দল সকলে ভয়ানক বিরক্ত। যাহাই হোক যাত্রা করিয়া এক কলার দোকানে গেলে হঠাৎ এক ভদ্রলোক আসিয়া . ৫কুড়ি কলা ও এবং নগদ ৫১ টাকা দিলেন। অতীব কষ্টে অধিবাস নির্বাহ হইল। শেষ রাত্রে বহু উনুন ধরানো হইল। চাল ডালে আড়াই মন-তিন মন পর্যন্ত আছে। এদিকে শান্তি কমিটির সকলে ভিতরে ভিতরে গালাগালি করিতে লাগিল মণীন্দ্রদাকে। তখন বাগমাতে ৪টি রিফিউজি ক্যাম্প, অন্তত ৮ হাজার লোক। উদয়পুর লইয়া অন্তত ৩০/৩৫ হাজার লোক হইবে। এখন উপায়, হঠাৎ বেলা ৮টার সময় একটি ছেলে আসিয়া খবর দিল, বাজারে শান্তি কমিটির লোকজনকে যাইতে। তাহারা যাইয়া দেখে, এক ট্রাক চাউল ডাল। খোঁজ করিয়া ট্রাকের ড্রাইভার হইতে জানা গেল, পথে বহু বস্তার স্তূপ লইয়া একজন বুড়া দাঁড়াইয়াছিল। খালি টাক পাইয়া নিজ ট্যাক হইতে ১০ টাকা দিয়া বাগমা বাজারে পাঠাইয়াছেন শান্তি কমিটির দ্বারা আয়োজিত শ্রীশ্রীঠাকুরের উৎসবের জন্য। উৎসব দিবসে অন্ততঃ ত্রিশ হাজার ভক্ত প্রসাদ পাইয়াছেন এবং পরদিন বাকি উৎসব দিবসে ১৪/১৫ হাজার লোক প্রসাদ পাইয়া তৎপর দিনেও যথেষ্ট উদ্বৃত্ত ছিল। জয় রাম জয় গোবিন্দ সোনার ঠাকুরের সোনার পরশ। পৃষ্ঠা সংখ্যা ২২ হইতে।
এতে সদস্যতা:
মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন
(
Atom
)






.jpg)
কোন মন্তব্য নেই: