অমৃত বাণী
(১) ঈশ্বরকে নিরন্তর স্মরণ, স্বার্থত্যাগ এবং সকলের প্রতি সমভাব রাখা উচিত।
(২) সর্ব সময় ভগবানকে স্মরণে রাখলে স্বার্থত্যাগ এবং সমভাব নিজে থেকেই এসে যায়।
(৩) যদি বলা হয় যে সব সময় ভগবানের স্মরণ কী করে হবে? এর জন্য একথা বোঝা চাই যে, সব সময় ভগবানকে স্মরণ করার মতো আর কোনো জিনিস নেই। ভগবানের স্মরণ যে সময় বন্ধ হয়ে যায় সেই সময় যদি প্রাণ চলে যায় তবে খুবই দুর্গতি হবে।
(৪) পরমাত্মাকে পাওয়ার সর্বশ্রেষ্ঠ উপায় হল পরমাত্মার নামজপ করা এবং তাঁর স্বরূপের ধ্যান করা। যদি তাড়াতাড়ি কল্যাণ পেতে হয় তাহলে এক মুহূর্তের জন্যও জপ-ধ্যান বন্ধ করা উচিত নয়। নিরন্তর জপ-ধ্যানের সহায়ক হল বিশ্বাস। বিশ্বাস উৎপাদনের সহজ পথ হল সংসঙ্গ অথবা কেঁদে কেঁদে ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করা। তিনি সমর্থ, তিনি সব কিছু করতে পারেন।
(৫) যোগের দ্বারা, ভক্তির দ্বারা অথবা জ্ঞানের দ্বারা যেভাবেই হোক অজ্ঞানতা দূর করে জ্ঞান প্রাপ্ত করার প্রয়োজন আছে। সেই জ্ঞান ভক্তি থেকে হতে পারে, জ্ঞানমার্গের সাধনেও হতে পারে।
(৬) যে কাজের জন্য আমরা এসেছি তা সম্পন্ন করাই হল সর্বশ্রেষ্ঠ যথার্থ কাজ। আমরা এসেছি পরমাত্মাকে লাভ করার জন্য। প্রথমে পরমাত্মাকে পেতে হবে। অন্য কোনো দিকে তাকাবার প্রয়োজন নেই। অন্য কোনো কাজে এক মুহূর্তের সময়ও দেওয়া উচিত নয়।
(৭) কালকের কোনো ভরসা নেই। পরমুহূর্তে কী হবে জানা নেই। এজন্য তাড়াতাড়ি তীব্রতার সঙ্গে সাধনায় সাফল্য অর্জন করা উচিত। সর্বশ্রেষ্ঠ সাধনা হল পরমাত্মার নামজপ করা এবং তাঁর স্বরূপের ধ্যান করা। যে নাম এবং স্বরূপে রুচি আছে তারই জপ-ধ্যান করতে হবে।
(৮) সকল সাধনাতেই জপ-ধ্যানের প্রয়োজন রয়েছে—তা সেটি জ্ঞানমার্গ, ভক্তিমার্গ অথবা যোগমার্গই হোক না কেন।
(৯) ভগবান বলেন—তুমি আমাতে মন নিয়োগ কর। আমার প্রতি মন লাগালে কঠিনতম সংকটও পার হয়ে যাবে।
(১০) ভগবানের নামজপ এবং স্বরূপের ধ্যান করে সময় অতিবাহিত করা উচিত। একটি মুহূর্তের জন্যও এই কাজ বন্ধ করা উচিত নয়।
(১১) বিষয় সৃষ্টিকারীরা বিষয় সৃষ্টি করতেই থাকবে। কিন্তু নিজেকে সেই সব বিষয়ে জড়ানো উচিত নয়। খুব তৎপরতার সঙ্গে চলতে হবে।
(১২) আমাদের প্রতি ভগবানের অপার কৃপায় আমরা মনুষ্য-জন্ম লাভ করেছি। এত কৃপা লাভ করেও যদি আমরা ঈশ্বর-লাভ থেকে বঞ্চিত থাকি তাহলে তা আমাদের পক্ষে লজ্জা, আমাদের দুর্ভাগ্য।
(১৩) তুলসীদাস বলেছেন—যে এমন সুযোগ পেয়েও ভগবানকে লাভ করতে পারেনি সে মূর্খ, নিন্দার পাত্র।
(১৪) সাধু-মহাত্মাদের কাছে তাঁদের পরীক্ষা করার জন্য যাওয়া উচিত নয়, আর তাঁদের পরীক্ষাও হতে পারে না।
(১৫) যাঁর সঙ্গ করলে ভালো গুণ ধারণ হয়, ভালো আচরণ হয়; তাঁর সঙ্গ করা উচিত। নিজের কাছে তিনিই তো মহাত্মা।
(১৬) কারো অবস্থার (দোষের) দিকে মন দেওয়া উচিত নয়, তা নিয়ে আলোচনা করাও উচিত নয়।
(১৭) প্রশ্ন—কাকে শ্রদ্ধা করা উচিত?
উত্তর— যার মধ্যে স্বার্থ নেই, অহংকার নেই, যার মধ্যে সমতা আছে অর্থাৎ যার মধ্যে পক্ষপাতিত্ব নেই, যার চেষ্টা অপরের ভালো করার—সেই মানুষকে শ্রদ্ধা করা উচিত। আর শ্রদ্ধা থাকা চাই পরমাত্মায়, শাস্ত্রে এবং পরলোকে।
(১৮) মানুষকে বিশেষ করে তার স্বভাবের সংস্কার করতে হবে। স্বভাব ভালো হলে আচরণও নিজে থেকেই ভালো হয়ে যাবে।
(১৯) অন্তঃকরণে যদি বৈরাগ্য আসে তাহলে মন ও ইন্দ্রিয়কে বশ করা সহজ হয়ে যায়।
(২০) বৈরাগ্যপূর্বক মন ও ইন্দ্রিয়কে সংযত করা ভালো জিনিস। বৈরাগ্য মুক্তি দানকারী।
(২১) ভক্তিমার্গ এবং জ্ঞানমার্গ দুটিই ভালো পথ। তবে তুলনামূলকভাবে ভক্তিমার্গ সহজ। এ থেকে পতনের সম্ভাবনা কম।
(২২) প্রশ্ন—বৈরাগ্য কাকে বলে?
উত্তর— বৈরাগ্যের তাৎপর্য হল সংসারের প্রতি আসক্তি না থাকা।
(২৩) প্রশ্ন—নির্বৃত্তি কাকে বলে?
উত্তর— সংসারের বস্তুগুলির প্রতি প্রবৃত্তি না হওয়াকেই নিবৃত্তি বলে।
(২৪) যদি এক দিক থেকে হাতি আসে আর অন্য দিক থেকে আসে দুর্জন, তাহলে হাতির পায়ের তলায় পিষ্ট হয়ে মরে যাওয়াই...
Reviewed by শ্রী শ্রী সত্যনারায়ণ নমঃ(SriSriramthakur O gan Ganer vhovon Youtube channel)
on
আগস্ট ০৭, ২০২৬
Rating:
%20(1).png)






.jpg)
কোন মন্তব্য নেই: