কৃপাসিন্ধু রামঠাকুর | জীবনের প্রথম আলো (পৃষ্ঠা ১–২)
ঠাকুর একবার আমার সেজ ভ্রাতার কালির কারখানায় সদানন্দ রোডে অসুস্থ হয়ে গুপ্তভাবে অবস্থান করছিলেন। তখন নিজ মুখে একদিন আমার সেজ ভাইকে বলেছিলেন, " আমিই জগন্নাথ " পুরী ধামে অবস্থানকালে শ্যামদা ও ভুবনদা কর্মস্থলে চলে গেলে আমি একাকী ঠাকুরের নিকট থাকতাম। তখন আমার মনের নানা প্রশ্ন ঠাকুর কে করিতাম। ঠাকুর আগ্রহ সহকারে আমার প্রশ্নের উত্তর দিতেন ও সরল ভাষায় বুঝিয়ে দিতেন। চঞ্চল মনকে স্থির করবার উপায় সম্বন্ধে ঠাকুর কে জিজ্ঞাসা করলে ঠাকুর প্রত্যুত্তরে বললেন, "একাগ্র চিত্তে নামের অভ্যাস করতে হয়। প্রথমে শূন্য চিন্তা করতে হয়। তারপর ধীরে ধীরে ধৈর্য সহকারে শ্বাস প্রশ্বাসের সঙ্গে সঙ্গে নাম করে যেতে হয়। সর্বদাই ধীর হতে হয়। ধীরের অভ্যাসেই মন চিত্ত ভাব সকল পবিত্র হয়। ধৈর্যধারণ করে স্থির বুদ্ধির আশ্রয় করতে হয়। তাহলেই মনের চঞ্চলতা দূর হয়। সর্বদাই নামে নির্ভর করে থাকবে। নামই সকল পাপ হতে নিষ্কতি করিবেন।
জয় রাম জয় গোবিন্দ সংগৃহীতচঞ্চল মনকে স্থির করার উপায় — শ্রীশ্রী রামঠাকুরের অমূল্য উপদেশ
জয় রাম জয় গোবিন্দ
শ্রীশ্রী রামঠাকুরের জীবন ও বাণী মানবজাতির জন্য এক অনন্ত আধ্যাত্মিক সম্পদ। তাঁর প্রতিটি উপদেশ সহজ, সরল এবং বাস্তব জীবনে অনুসরণযোগ্য। এমনই একটি মূল্যবান ঘটনার স্মৃতিচারণ করেছেন একজন ভক্ত।
একবার শ্রীশ্রী রামঠাকুর আমার সেজ ভ্রাতার সদানন্দ রোডের কালির কারখানায় অসুস্থ অবস্থায় গুপ্তভাবে অবস্থান করছিলেন। সেই সময় তিনি আমার সেজ ভাইকে নিজ মুখে বলেছিলেন—
"আমিই জগন্নাথ।"
পরবর্তীকালে পুরীধামে অবস্থানকালে শ্যামদা ও ভুবনদা কর্মস্থলে চলে গেলে আমি প্রায়ই একাকী ঠাকুরের সান্নিধ্যে থাকার সৌভাগ্য লাভ করতাম। সেই সময় আমার মনে উদিত নানা আধ্যাত্মিক প্রশ্ন তাঁকে করতাম। ঠাকুর অত্যন্ত স্নেহ ও আগ্রহের সঙ্গে প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর দিতেন এবং অত্যন্ত সরল ভাষায় বিষয়গুলি বুঝিয়ে দিতেন।
একদিন আমি তাঁকে জিজ্ঞাসা করলাম—
"চঞ্চল মনকে স্থির করার উপায় কী?"
ঠাকুর উত্তর দিলেন—
"একাগ্র চিত্তে নামের অভ্যাস করতে হয়। প্রথমে শূন্য চিন্তা করতে হয়। তারপর ধীরে ধীরে ধৈর্য সহকারে শ্বাস-প্রশ্বাসের সঙ্গে সঙ্গে নাম করে যেতে হয়। সর্বদাই ধীর হতে হয়। ধীরের অভ্যাসেই মন, চিত্ত ও ভাব সকল পবিত্র হয়। ধৈর্য ধারণ করে স্থির বুদ্ধির আশ্রয় করতে হয়। তাহলেই মনের চঞ্চলতা দূর হয়। সর্বদাই নামে নির্ভর করে থাকবে। নামই সকল পাপ হতে নিষ্কৃতি করিবেন।"
বাণীর ব্যাখ্যা
ঠাকুরের এই উপদেশ আমাদের অন্তর্জীবনের সাধনার এক সহজ পথ নির্দেশ করে। মনকে জোর করে দমন করা যায় না; বরং ঈশ্বরের নামের মধ্যে মনকে ধীরে ধীরে নিবিষ্ট করতে হয়। শ্বাস-প্রশ্বাসের সঙ্গে নামজপ করলে মন স্বাভাবিকভাবেই একাগ্র হতে শুরু করে।
ঠাকুর বিশেষভাবে ধৈর্য ও স্থিরতার উপর গুরুত্ব দিয়েছেন। অস্থিরতা থেকে অশান্তি জন্মায়, আর ধীরতা থেকে জন্ম নেয় পবিত্রতা, শান্তি ও ঈশ্বরচেতনা। নিয়মিত নামস্মরণে মন ক্রমে নির্মল হয় এবং জীবনের দুঃখ, ভয় ও অশান্তি দূর হতে থাকে।
তিনি আরও শিক্ষা দিয়েছেন যে, ঈশ্বরের নামই মানুষের প্রকৃত আশ্রয়। নামের উপর নির্ভরশীল জীবনই মুক্তির পথ। নামস্মরণ মানুষের অন্তরকে শুদ্ধ করে এবং পাপবন্ধন থেকে মুক্তির দিকে পরিচালিত করে।
আমাদের শিক্ষণীয় বিষয়
একাগ্রচিত্তে নিয়মিত নামজপের অভ্যাস করতে হবে।
শ্বাস-প্রশ্বাসের সঙ্গে ঈশ্বরের নাম স্মরণ করলে মন সহজে স্থির হয়।
ধৈর্য ও স্থিরতা আধ্যাত্মিক জীবনের অপরিহার্য ভিত্তি।
চঞ্চল মনকে জোর করে নয়, নামের শক্তির মাধ্যমে শান্ত করতে হবে।
সর্বদা ঈশ্বরের নামের উপর নির্ভরশীল থাকাই প্রকৃত শান্তি ও মুক্তির পথ।
জয় রাম জয় গোবিন্দ।
Reviewed by শ্রী শ্রী সত্যনারায়ণ নমঃ(SriSriramthakur O gan Ganer vhovon Youtube channel)
on
আগস্ট ০৪, ২০২৬
Rating:






.jpg)
কোন মন্তব্য নেই: