একটানা একটা করুণ কান্নার স্বর ঠাকুরমহাশয়ের কানে আসছিল। পঞ্জিকায় দৃষ্টি নিবন্ধ ছিল তখন তাঁহার। হঠাৎ একটা চিৎকারের শব্দ তাঁর কানে এল। ভদ্রলোকের সহধর্মিণীর ঘরের দ্বারপ্রান্তে এসে দাঁড়ালেন ঠাকুরমহাশয়। 'কী হয়েছে মা?" ঠাকুরমহাশয় জিজ্ঞাসা করলেন। কাঁদতে কাঁদতে ভদ্রমহিলা ফোড়া ও তার দুঃসহ যন্ত্রণার কথা তাঁহাকে জানালেন। এখন বাড়ীতে কোন পুরষে নেই, চিকিৎসকও এত বেলায় ডিস্পেন্সারিতে নেই। সুতরাং চিকিৎসক ডাকবে কে? প্রচণ্ড ব্যথায় তিনি কাতর, তাই বললেন, 'ঠাকুরমহাশয়, এখন তো আমি নিরুপায়, কী করে এই ব্যথা আর সহ্য করি?” ধীরে ধীরে ঠাকুরমহাশয় তার শয্যার পাশে এসে সস্নেহে বললেন, "মা, নিরুপায় হইলেই উপায় হয়।" শিশু যেমন মাতৃস্তন্য পান করে, ঠাকুরমহাশয়ও তেমনি কয়েকটি মুহূর্তের জন্য সেই ভদ্রমহিলার স্তন্যপানে রত রহিলেন। প্রচুর পু'জরক্তসহ ফোড়াটি ফেটে গেল। দুঃসহ ব্যথার অবসান হল। এই রোগযন্ত্রণায় মহুদিন ধরেই তাকে প্রায় বিনিদ্র রজনী কাটাতে হয়েছিল। যন্ত্রণার উপশম হওয়ায় ধীরে ধীরে তিনি ঘুমিয়ে পড়লেন। ঠাকুর- মহাশয় নিজের ঘরে ফিরে এসে পূর্বের মত আবার পঞ্জিকা দেখতে লাগলেন। ছুটির পর ছেলেরা একে একে বিদ্যালয় থেকে বাড়ী ফিরে এল। চাদরখানা গায়ে জড়িয়ে নিয়ে ঠাকুরমহাশয় বেরিয়ে পড়লেন। কর্মস্হল থেকে গৃহে ফিরে ভদ্রলোক সবকথা শুনলেন। আশ্চর্য্য হলেন ঠাকুরমহাশয়ের অপার করুণায়।
শ্রুতিতে রাম ঠাকুর ফণিভূষণ চক্রবর্তী ২য়(৭৪)
এতে সদস্যতা:
মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন
(
Atom
)






.jpg)
কোন মন্তব্য নেই: