গুরু ভাই বোনসহ সকল সনাতনী ভাই বোনদের জানাই স্বাগত ,উদ্দেশ্য গুরু দেবের অমৃত বানী সকলের মাঝে প্রচার করা।

ভাব এক, বিভূতি অনেক’ — অবিনাশ বাবুর অপূর্ব ভাগ্যদর্শন

 ভাব এক, বিভূতি অনেক’ — অবিনাশ বাবুর অপূর্ব ভাগ্যদর্শন


শ্রীশ্রী রামঠাকুরের অলৌকিক লীলা
ঠাকুরের ভাব এক, বিভূতি অসংখ্য, মহিমা অপার। তাই স্থানভেদে তাঁর মহিমার প্রকাশও নানা রূপে ঘটে।
যাদবপুর বিজয়গড় কলোনীর কালীমন্দিরে প্রতি অমাবস্যায় গভীর রাতে ঠাকুর প্রবেশ করতেন এবং শেষরাতের দিকে বের হতেন। এই দৃশ্য প্রায়ই লক্ষ্য করতেন মন্দিরের সামনে অবস্থিত মিষ্টির দোকানের মালিক অবিনাশচন্দ্র দত্ত।
একদিন কৌতূহলবশত তিনি কালীমন্দিরের দরজার ফাঁক দিয়ে দেখেন—ঠাকুর পূজায় বসে আছেন। চারদিকে নৈবেদ্য সাজানো, আর ঠাকুর স্থির-নিশ্চল অবস্থায়।
প্রভাতে যখন ঠাকুর মন্দির থেকে বের হলেন, অবিনাশবাবু তাঁর চরণ ধরেই বলেন—
“ঠাকুর, আমি সব দেখেছি, আমাকে আর ফাঁকি দিতে পারবেন না।”
ঠাকুর বললেন—
“আপনি অন্যায় করেছেন। আপনি অন্ধ হয়ে যাবেন।”
অবিনাশবাবু শান্তভাবে উত্তর দিলেন—
“ঠাকুর, আমি অন্ধ হলে আমার দুঃখ নেই। শুধু আমাকে যেন সর্বদা আপনাকে দেখতে পাই। মৃত্যুর সময় আপনিই যেন আমার পাশে থাকেন—এটাই আমার প্রার্থনা।”
ঠাকুর তাঁকে আশীর্বাদ দিয়ে চলে গেলেন।
এর পর সত্যিই অবিনাশবাবু ক্রমশ দৃষ্টিশক্তি হারাতে হারাতে সম্পূর্ণ অন্ধ হয়ে কৃষ্ণনগরের গ্রামে চলে যান।
সময় গড়িয়ে তাঁর শরীরও ভেঙে পড়ল। মৃত্যুর দিন ভোর থেকেই তিনি বলতে থাকেন—
“আমার ঠাকুর আসছেন… তোমরা স্টেশন থেকে নিয়ে এসো।”
কারও প্রথমে বিশ্বাস হয়নি। অবশেষে জোরাজুরিতে একজন স্টেশনে গেলেও ঠাকুরকে চিনতে না পেরে ফিরে আসেন।
এদিকে অবিনাশবাবু বলেই চলেছেন—
“দেখো, ঠাকুর গাছতলা পর্যন্ত এসেছেন… এখন তিনি বাড়ির দরজায়… তোমরা তাঁকে ভেতরে নিয়ে এসো।”
একজন বাইরে গিয়ে সত্যিই দেখলেন—
শ্রীশ্রী রামঠাকুর উঠানে দাঁড়িয়ে আছেন।
ঠাকুরকে ভেতরে আনা হলো। তিনি অবিনাশবাবুর শিয়রে দাঁড়িয়ে রইলেন।
অবিনাশবাবু তাঁর শ্রীচরণ স্পর্শ করলেন—
মুহূর্তের মধ্যেই তাঁর ইহলীলা সাঙ্গ হল।
কি অসীম ভাগ্য!
বহিঃদৃষ্টি হারালেও, তিনি ফিরে পেলেন অন্তর্দৃষ্টি। তাই মৃত্যুশয্যায় থেকেও দেখতে পাচ্ছিলেন—
“এই যে, ঠাকুর আসছেন…”
যিনি চর্মচক্ষুর আলো হারান, কিন্তু অন্তরচক্ষুর আলো পান—
তাঁর দুঃখ কিসের?
আমার প্রার্থনা
হে রামঠাকুর,
আমাকেও সেই অন্তঃদৃষ্টি দাও—
যে দৃষ্টিতে অন্তিমকালেও তোমাকে দর্শন করে
এই ইহলীলা সাঙ্গ করতে পারি।
“অজ্ঞান-তিমির-অন্ধস্য জ্ঞানাঞ্জন-শলাকয়া,
চক্ষুরুন্মীলিতং যে তস্মৈ শ্রীগুরবে নমঃ।”
✍️ Written by: Subrata Majumder
📚 Collected from: Pranaram Book
🔁 Request to all: Please share this post
ভাব এক, বিভূতি অনেক’ — অবিনাশ বাবুর অপূর্ব ভাগ্যদর্শন ভাব এক, বিভূতি অনেক’ — অবিনাশ বাবুর অপূর্ব ভাগ্যদর্শন Reviewed by শ্রী শ্রী সত্যনারায়ণ নমঃ(SriSriramthakur O gan Ganer vhovon Youtube channel) on November 19, 2025 Rating: 5

No comments:

Powered by Blogger.