গুরুতত্ত্ব ও গুরুগীতা — গুরুর মহিমা, পাদোদক ও নামের আলোতে জীবনরক্ষার পথ
লেখক/সংকলক: Subrata Majumder
উৎস: বাণীর আলোকে পথ চলা – Sri Sri Ramthakur-er Potransho-er Byakhya
প্রারম্ভিক ভাবনা
শ্রীশ্রীঠাকুর বলেছেন—গুরু কেবল জ্ঞানের প্রদাতা নয়; তিনি তীর্থরাজ, বিশ্বেশ্বর ও ব্রহ্মের সসত্তা প্রকাশ। গুরুবিহীন বিদ্যা ধ্রুপদী ভ্রান্তি ঘঠায়। এজন্য গুরুর উপস্থিতি, গুরুবক্ত্র ও গুরুমূল্যের বোঝাপড়া আধ্যাত্মিক জীবনের অপরিহার্য অংশ।
গুরুর পাদোদক: অর্থ ও কার্যকারিতা
গুরুর পাদপৃষ্টজল ও পাদোৎসর্গকে ঠাকুর তীর্থস্নানের সমমূল্য বলে উল্লেখ করেছেন। পাদোদক গ্রহণ মানে পবিত্রতা লাভ এবং জন্ম—কর্মের বন্ধনী আল্প করা। গুরুর উচ্ছিষ্ট ভোজন বা ভক্তিপূর্ণ আন্তরিক পাদসেবন — এগুলো ভক্তের মনকে পরিশুদ্ধ করে আত্মিক উন্নতির পথ সুগম করে।
নাম, ধ্যান ও স্তোত্র: গুরুর মুখে ব্রহ্ম
ঠাকুর স্পষ্ট করেন—গুরুর মুখে ব্রহ্মা বিরাজ করেন; গুরুর কৃপায়ই ব্রহ্মজ্ঞান লাভ হয়। তাই গুরুর নাম সারাক্ষণ জপ করিবার উপদেশ দেওয়া হয়েছে। নামস্মরণ মনকে ঈশ্বরমুখী করে এবং সংসারী কষ্টকে কমিয় দেয়।
গুরুর আজ্ঞা পালন এবং জীবনের অনুশাসন
গুরু নির্দেশ দেন—নিজের আশ্রম বা বর্ণোপযুক্ত কর্মই থাকুক, তবে কেবল গুরুর নির্দেশ এবং ভক্তি ত্যাগ না করিবে। কুশিক্ষিত বা গুরুবিহীন বিদ্যা থেকে দূরে থেকো। ব্রহ্মবিদ্যা গুরুর মুখে অবস্থান করে এবং ভক্তিভাবে লাভ হয়।
প্রয়োগযোগ্য উপদেশ (Action Points)
- প্রতিদিন ছোটোকালের জন্য গুরুমূর্তির ধ্যান করো।
- গুরুর নাম (বা গুরুমন্ত্র) নিয়ম করে জপ করো।
- গুরুর পাদোদক গ্রহণ করার উপলক্ষ পেলে বিনয় করে গ্রহণ করো।
- গুরুর আজ্ঞা অনুযায়ী তোমার দৈনন্দিন আচরণ ও কর্ম সাজাও।
- কুসংস্কার ও গুরুবিহীন প্রক্রিয়া থেকে দূরে থেকো।
উপসংহার
গুরু হচ্ছেন আত্মার রক্ষক। তার পাদপৃষ্ঠজল, নামস্মরণ ও কৃপা — এগুলোই জীবকে সংসারসাগর থেকে উত্তরণ করিয়ে সন্তানের মত নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়ে যায়। শ্রীশ্রীঠাকুরের বাণী ও গীতার মিশেলে এ শিক্ষাই সার্বজনীন—নিরন্তর গুরুভক্তি ও গুরুপথই মুক্তির মূল।
Reviewed by শ্রী শ্রী সত্যনারায়ণ নমঃ(SriSriramthakur O gan Ganer vhovon Youtube channel)
on
October 22, 2025
Rating:





.jpg)
No comments: