Sri Sri Ram Thakur is a revered spiritual master whose teachings continue to inspire countless devotees across India and around the world. The website serves as a comprehensive digital platform dedicated to preserving, promoting, and sharing the divine life, teachings, philosophy, and spiritual legacy of Sri Sri Ram Thakur, lovingly known as Dayal Thakur, Sri Sri Kaibalyanath, and Sri Sri Satyanarayan by his followers. Born as Ram Chandra Dev in Dingamanik, Faridpur (present-day Bangladesh)

১/১৫৭ "সত্যং পরং ধীমহি।

 

১/১৫৭ "সত্যং পরং ধীমহি।

 এই সত্যই পরম ধ্যান নিশ্চয় জানিতে হয়। ভগবান ভিন্ন জগতপ কর্ত্তৃত্বযোগে যাহা কিছু চর অচর, সুখ দুঃখ, ধর্ম্ম অধর্ম্ম, পাপ পুণ্য, ভালমন্দ, জ্ঞান অজ্ঞান, শুভ অশুভ, সিদ্ধ অসিদ্ধ, দেনা পাওনা ইত্যাদি যত রকম দ্বন্দ জীবলোকে সংয়োগ হয় সকলি রাক্ষস অসুরের কারবার ভিন্ন কিছুই নয়। ইহাদিগকে ভ্রম বলে, স্থিতি নাই, সর্ব্বদাই ক্ষয়শীল। উহারাই জীবের প্রজ্ঞাকে হরণ করিয়া প্রলোভন শাসন, উৎপাৎ, ঘটাইয়া থাকে। এই সকল রজগুণ হইতে সৃষ্ট হয় বলিয়াই সর্ব্বদাই জীব ইহার দ্বারা প্রলোভিত হইয়া বন্দী হয়; বন্দী হইয়া ধর্ম্মাধর্ম্মে ভুল হইয়া তাহাদের অধীন হইয়া কিংকর্ত্তব্য হারাইয়া ফেলে। এই জন্যই অনিত্য পদার্থের প্রাপ্তি অপ্রাপ্তিতে শান্তি অশান্তি নিয়া দ্বন্দ্বজ করিয়া সত্য যে খাঁটি বস্তু তাহা একেবারে বিস্মৃত হইয়া যায়। এই সকল বেগ সহ্য করিতে করিতে সত্যবস্তু প্রকাশ হইয়া সকল ভ্রান্তি দূর করিয়া পরম অপার শান্তি নিয়া যায়, বিচ্ছেদ হয় না।"
www.srisriramthakur

- শ্রী শ্রী রাম ঠাকুর।

ব্যাখ্যাঃ

সত্যং পরং ধীমহি-অামরা সেই সত্যস্বরূপ পরম পুরুষের ধ্যান পরায়ণ হইয়াছি- ইহা বেদান্তের কথা শ্রীমদ্ভাবতের ১ম শ্লোকে উহা উদ্ধৃত হইয়াছে। শ্রীমদ্ভাগবতের প্রতিপাদ্য বিষয় অার ব্রহ্মসূত্রের প্রতিপাদ্য বিষয় যে একই-শ্রীমদ্ভাগবত যে ব্রহ্মসূত্রের অকৃত্রিম ভাষ্য, তাহা ইহা হইতে প্রমাণিত হয়। ঠাকুর তাই বলিতেছেন- এই সত্যই (ব্রহ্মসূত্রের এই সত্য বাণীই) [যে জীবের] পরম ধ্যান (অর্থাৎ পরম ধ্যানের) [বিষয়, ইহা] নিশ্চয় [করিয়া] (নিশ্চিতরূপে) জানিতে হয় (মান্য কর্ত্তব্য) ভগবান বিশ্বজগতে কর্ত্তৃত্বযোগে (অহং কর্ত্তা ভাব হইতে উদ্ভূত) যাহা কিছু চর অচর (স্থির, অস্থির), সুখ দুঃখ, ধর্ম্ম অধর্ম্ম, পাপপুণ্য, ভালমন্দ, জ্ঞান অজ্ঞান, শুভ অশুভ, সিদ্ধ অসিদ্ধ, (অর্থাৎ সিদ্ধি অসিদ্ধি) ইত্যাদি যতরকম দ্বন্দ্ব (দ্বৈতভাব) জীবলোকে সংযোগ হয়, সকলই রাক্ষস অসুরের

(রাক্ষসী এবং অাসুরিক) ভাবের কারবার (খেলা) ভিন্ন কিছুই নয়। ইহাদিগকে (অর্থাৎ এই সমস্ত দ্বৈতভাবকে দ্বন্দ্বজই অর্থাৎ জগতে যাহা কিছু দ্বৈতভাব হইতে উৎপন্ন, সুখদুঃখ, ভালমন্দ, পাপপুণ্যের মত দ্বৈতভাবময়, তাহাই দেবদানব বলিয়া (অখ্যায়, পরিচিত) দুইটি ভূত (দুইটি সৃষ্ট পদার্থ) [রূপে] জীবলোকে (জীবের অাবাসভূমি এই পৃথিবীতে) জানিয়া থাকে (পরিচিত হইয়া থাকে)। এদের স্বভাবই (প্রকৃতিই হইল) উদয়, অস্ত (অার্বিভাব তিরোভাব) স্থিতি নাই। (স্থিরত্ব নাই, সর্ব্বদাই ক্ষয়শীল)। উহারাই জীবের প্রজ্ঞাকে (প্রকৃতজ্ঞান, সুবুদ্ধি) হরণ করিয়া প্রলোভন, শাসন, উৎপাৎ ঘটাইয়া থাকে-নানাভাবে প্রলুব্ধ শাসিত ও নির্য্যাতিত করিয়া থাকে। এই সকল রজগুণ হইতে সৃষ্ট হয় বলিয়াই সর্ব্বদা ইহার দ্বারা প্রলোভিত হইয়া বন্দী হয়-অাবদ্ধ হয়। বন্দী হইয়া ধর্ম্মাধর্ম্ম (কোনটি ধর্ম্ম, কোনটি অধর্ম্ম, তাহার বিচার করিতে) ভুল হইয়া (ভুল করিয়া) তাহাদের (ঐ সকল দ্বৈতভাবের) অধীন হইয়া কিংকর্ত্তব্য হারাইয়া ফেলে (অর্থাৎ কি করা উচিত তাহা বুঝিতে পারে না)। এই জন্য অনিত্য পদার্থের প্রাপ্তি [অথবা] অপ্রাপ্তি শান্তি অশান্তি নিয়য় (শান্তি অথবা অশান্তি বোধ করিয়া) দ্বন্দ্বজ করিয়া (দ্বৈতভাবের অধীন হইয়া) সত্য যে খাঁটি (বিশুদ্ধ) বস্তু তাহা একেবারে বিস্মৃত হইয়া যায় (ভুলিয়া যায়)। এই সকল বেগ (দ্বৈতভাবের অাঘাত) সহ্য করিতে করিতে, সত্যবস্তু প্রকাশ হইয়া সকল ভ্রান্তিই দূর করিয়া পরম অপার শান্তিতে নিয়া যায় (লইয়া যায়), বিচ্ছেদ হয় না (কখনও সে শান্তির অবসান হয় না)।

১. সত্যই পরম ধ্যানের বিষয়।
“সত্যং পরং ধীমহি” আসলে বেদান্ত ও ভাগবতের মূল সূত্র। এই সত্যই ব্রহ্মজ্ঞান, এই সত্যই ভগবানের পরিচয়। জীবের পরম লক্ষ্য এই সত্যকেই ধ্যান করা।

২. জগতের দ্বন্দ্ব আসলে ভ্রান্তি।
সুখ–দুঃখ, ধর্ম–অধর্ম, পাপ–পুণ্য, ভালো–মন্দ—সবকিছুই ক্ষণস্থায়ী দ্বন্দ্ব। ঠাকুর বলছেন, এগুলো রাক্ষসী-অসুরিক প্রভাবে সৃষ্টি, যেগুলি আসলে রজগুণ থেকে উদ্ভূত। তাই এগুলোর স্থায়িত্ব নেই, কেবল ক্ষয়শীল।

৩. দ্বন্দ্ব জীবকে আবদ্ধ করে।
মানুষ যখন এই দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়ে তখন তার প্রজ্ঞা হারায়। সে কি ধর্ম, কি অধর্ম তা বুঝতে পারে না। ফলে ভ্রান্তি, প্রলোভন, অশান্তি তাকে বেঁধে রাখে।

৪. অনিত্য পদার্থের প্রতি আসক্তি মূল ফাঁদ।
অপ্রাপ্তিতে অশান্তি, প্রাপ্তিতে আনন্দ—এটাই জীবের দুরবস্থা। কিন্তু এই দ্বৈত আসক্তিই তাকে সত্য থেকে দূরে সরিয়ে দেয়।

৫. সত্য প্রকাশ পেলে শান্তি স্থায়ী হয়।
যখন মানুষ ধৈর্য ধরে দ্বন্দ্বের আঘাত সহ্য করতে থাকে, ধীরে ধীরে সত্য স্বয়ং প্রকাশিত হয়। তখন ভ্রান্তি দূর হয়ে যায়, আর সেই সত্য মানুষকে এমন শান্তি দেয় যা কখনও বিচ্ছিন্ন হয় না।


👉 সহজভাবে বললে,
ঠাকুর এখানে শিখাচ্ছেন—ভগবানই একমাত্র সত্য। বাকী সব দ্বন্দ্ব, সুখ–দুঃখ, পাপ–পুণ্য ক্ষণস্থায়ী মায়ার খেলা। যিনি এই দ্বন্দ্ব অতিক্রম করে সত্যে স্থির হন, তিনি ভোগ–অভোগের ঊর্ধ্বে গিয়ে চিরশান্তি লাভ করেন।

১/১৫৭ "সত্যং পরং ধীমহি। ১/১৫৭ "সত্যং পরং ধীমহি। Reviewed by শ্রী শ্রী সত্যনারায়ণ নমঃ(SriSriramthakur O gan Ganer vhovon Youtube channel) on অক্টোবর ০৫, ২০২৫ Rating: 5

কোন মন্তব্য নেই:

Blogger দ্বারা পরিচালিত.